গ্রামাঞ্চলে রান্না করার কাজে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয় না লাকড়ি। আর শহর এলাকাগুলোতে আবাসিক বা সিলিন্ডার গ্যাস। বর্তমানে সকল অঞ্চলেই বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার কারণে নতুন পদ্ধতিতেও রান্নাবান্নার কাজ করা হচ্ছে। আর এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত কারেন্টের চুলার দাম কত সে বিষয়টি নিয়ে আজকে আপনাদেরকে জানাবো।
বিদ্যুৎ চালিত এই চুলাগুলো গ্রামসহ শহরেও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এতে করে বারবার সিলিন্ডার গ্যাস কেনার প্রয়োজন নেই এবং যখন তখন যে কোন কিছুই রান্না করা সহজ হয়ে ওঠে। আবার জানা সিলিন্ডার গ্যাসের দুর্ঘটনা নিয়ে ভয় থাকেন তারা তাদের কাছেও ইলেকট্রিক চুলা গুলো খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বর্তমান বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক চুলা পাওয়া যায়। মডেল এবং কোম্পানি ভেদে দামও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এগুলো সব চাইতে সুবিধা জনক দিন হচ্ছে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আবার যারা গ্রামের বাড়িতে আবাসিক গ্যাসের সংযোগ কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস কেনার তেমন কোন অসুবিধা নেই কিন্তু বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি খুবই উপযোগী।
ভিশন কারেন্টের চুলার দাম কত
এই কোম্পানির চুলাগুলিও মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করতে পেরেছে। সাধারণভাবে ভিশনের একটি ইলেকট্রিক চুলার দাম মোটামুটি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভিশনের বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক চুলার মডেল রয়েছে। যেগুলো দেখতে খুবই অসাধারণ আধুনিক ফিচার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
আপনি চাইলে আপনার আশেপাশে যে কোন ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান ভিশনের শোরুম অথবা অনলাইন হতেও এই সকল কুকার অর্ডার করতে পারবেন।
ওয়ালটনের ইলেকট্রিক চুলার দাম কত
বাংলাদেশের বাজারে অন্যতম আরো একটি জনপ্রিয় কোম্পানি হচ্ছে ওয়ালটন। টিভি, ফ্রিজের পাশাপাশি এই কোম্পানিটি রাইস কুকার ও ইলেকট্রিক চুলা গুলির উৎপাদন করে থাকে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং টেকসই তার কারণে এটি সাধারণ মানুষদের মনের জায়গা করে নিয়েছে।
ওয়ালটনের Wi Stanley 20 ইনডাকশন কুকারের প্রাইস বর্তমান বাজারে ৫১৫৩ টাকা। যদিও এর আগের মূল্য কিছুটা বেশি ছিল। তবে এখন ডিসকাউন্ট অফার চলছে। এছাড়াও অন্যান্য মডেলের বেশ কয়েকটি ইন্ডাকশন প্রকার রয়েছে যেগুলোর মূল্য ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি চুলার সাথে থাকছেন নির্দিষ্ট মেয়েদের ওয়ারেন্টি সার্ভিস।
উপরের তো দুইটি ব্র্যান্ড ছাড়াও মিয়াকো নানা ধরনের বিদেশি কোম্পানির প্রকার ও পাওয়া যায়। এখন তো মাল্টি কুকারও পাওয়া যাচ্ছে যেগুলোতে সাধারণ চুলার মতই সকল ধরনের আইটেম রান্না করা যায়।
বিদ্যুৎ চালিত কুকার কেন এত জনপ্রিয়
ইতিমধ্য আপনারা কারেন্টের চুলার দাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পেরেছেন। এ সকল চুলা গুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেগুলো সম্পর্কে নিশ্চয় আপনাদেরকে ধারণা দেওয়া হলো:
• ইলেকট্রিক চুলায় সাধারণত তাপ কমানো এবং বাড়ানোর বিশেষ ফিচার থাকে। যার কারণে যে কোন ধরনের আইটেমই খুব সহজে এবং সুন্দরভাবে রান্না করা যায়।
• আকারে ছোট এবং মুসৃন হওয়ায় খুব সহজে সেটি পরিষ্কার করা যায়।
• দেখতে অসাধারণ বলে রান্না করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
• আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হয় এতে এমন বিশেষ ধরনের ফিচার রয়েছে যার কারণে রান্না না করা হলে এটি অটোমেটিক ভাবেই বন্ধ হয়ে যায়।
• যারা চাকরী করেন বা বিজনেসের জন্য প্রায়ই এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় স্থানান্তর হয় তাদের জন্য খুবই সুবিধা জনক।
• এটির মাধ্যমে গ্যাস কিংবা লাকড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
কারেন্টের চুলা কেনার আগে কি কি জানতে হবে
আপনি যদি এই ধরনের একটি পণ্য কেনার কথা বিবেচনা রাখেন তাহলে এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে আগে থেকে জানা লাভ করা প্রয়োজন।
যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এ ধরনের চুলায় কি কি ধরনের পাত্রের সাহায্যে রান্না করা যায় সেটা জানা। কারণ গ্যাসের কিংবা সাধারণ চুলার মত সকল ধরনের পাত্রই এখানে আপনি ফিট করতে পারবেন না। তাই কেনার আগে এটা সম্পর্কে দোকানদারের কাছ থেকে ভালোভাবে জেনে নিন।
এই ধরনের চুলা গুলির বিদ্যুতের দ্বারা পরিচালিত হয় সব সময় শুকনো হাতে রান্না করার কাজ করতে হবে। সেই সাথে নিয়মিত পরিষ্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণও করা জরুরী।
যেকোনো ধরনের চুলায় বাচ্চাদের হাতের নাগাল থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। আবার প্রতিবার রান্না শেষের বিদ্যুতের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে কিনা সেটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরী।
আশা করি কারেন্টের চুলার দাম কত সেটি আপনারা জেনেছেন এবং আপনাদের জন্য এখন সঠিক সহজভাবে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে। আপনার প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুযায়ী ইনফ্রারেড কিংবা ইনডাকশন চুলা নিতে পারেন। আর অবশ্যই বাসার বিদ্যুতের সংযোগ কোন ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে যাচাই করে নিবেন।